কার ভাগ্যে বিধাতা কি লিখেছে কে জানে!

বাচ্চাদের   প্লেটে শাক দিলে বলবে-“ঘাস রান্না খাব না; সবজি দিলে বলে গোবর রান্না আর মাছে বিশ্রী গন্ধ। মাংস ছাড়া তাদের ভাত গলা দিয়ে নামে না। আর পোলাঊ-বিরিয়ানি হলে মুখে একটু রুচি আসে। কিছুতেই বুঝাতে পারি না এই দুঃসময়ে এত মাংস পাব কোথায়? বাইরে যেতে পারি না । কত আর স্টোর করে রাখা যায়? গতকাল না পেরে এই ছবিটা দেখিয়ে বললাম “ তোমরা খাবারের   জন্য এত বায়না কর, অযথা খাবার নষ্ট কর ,অপচয় কর অথচ তোমাদের মত একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে দিনের পর দিন খাবারের পেছনে ছুটতে ছুটতে অবশেষে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছে।

  

“ছবিটি ১৯৯৩ সালে সুদানে দুর্ভিক্ষের সময় তোলা  একটা  ছবি।ছবিতে  প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত একটা   মেয়ে শিশু খাবারের খোঁজে একটু দূরে অবস্থিত খাদ্য গুদামের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কংকালসার দেহটিতে একটুও শক্তি নাই চলার মত।তাই  হাল দিয়ে সে অপেক্ষা করছে আসন্ন মৃত্যুর জন্য। একটু দূরে দাড়িয়ে এক শকুন বাচ্চাটির উপর নজর রাখছে।সে অপেক্ষা করছে বাচ্চাটির মৃত্যুর জন্য, কখন বাচ্চাটি মারা যাবে আর কখন সে বাচ্চাটির মৃত দেহ খেয়ে নিজের ক্ষুধা মেটাবে।“

ছবিটি তুলেছেন ঃ কেভিন কার্টার

কেভিন কার্টার একজন দক্ষিণ –আফ্রিকান ফটোজার্নালিস্ট। কার্টারের দায়িত্ব ছিল ছবি তোলা এবং সেখান থেকে চলে আসা। পেশাদারিত্বের খাতিরে কার্টার ছবি তুলে দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করেন।বাচ্চাটির শেষ পরিণতি  কি হয়েছিল তা  আর কখনও জানা হয়নি কার্টারের । ছবিটির জন্য কার্টার সাংবাদিক জগতের বিখ্যাত পুরস্কার ‘পুলিতজার’ লাভ করেন; তবে বিশেষভাবে সমালোচিত হন বাচ্চাটিকে সাহায্য না করার জন্য।

এই ছবিটি তোলার তিন মাস পরেই মাত্র ৩৩ বছর বয়সে  কার্টারের জীবনের অবসান ঘটে। অনেকের মতে , বাচ্চাটিকে সাহায্য না করতে পারার অনুশোচনায় দগ্ধ হয়েই নাকি  শেষ মেষ তিনি  আত্মহত্যা করেন ।

মৃত্যুর পরে তার   লেখা ডায়েরী  থেকে  পাওয়া যায় –

“ Dear god, I promise I will never waste may food no matter how bad it can taste and how full I may be.I pray that He(God) will protect the child , guide her and deliver her away from her misery.I pray that we will be more sensitive towards the world around us and not be blinded by our own selfish nature and interests.I hope this picture will always serve  as a reminder to us that how fortunate we are and we must never ever take things for graunted.”

এছাড়া আরও  একটা নোটে  উনি লিখেছেন—

সত্যি আমরা জানিনা আগামীতে কি অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। আমরা  গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি না  আমাদের  বাচ্চাকে  সব সময় মাংস দিয়ে ভাত খাওয়াতে পারবো । আমরা বলতে পারি না, আমাদের বাচ্চার ভাগ্য সব সময় সুপ্রসন্ন থাকবে ।

নিয়তি জানে এই স্মার্ট আর বেয়াদপ করনা আমাদেরকে কোনদিকে নিয়ে যাবে!     

আমরা কি কখনও জানতাম আমরা চিড়িয়াখানার প্রাণীর মত খাঁচাই বন্দি থাকব আর মুক্ত বাতাসে পাখিরা উড়ে উড়ে গান গাইবে  আর মজা করে আমাদের দেখবে!

তাই আমাদের উচিত খাবার যতই বিশ্রী রান্না হোক না কেন তার একটি কণাও নষ্ট না করা।বাসায় যা রান্না হবে আলহামদুলিল্লাহ বলে তা  তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে ফেলা। বাচ্চাকে সব ধরনের খাবারে অভ্যস্ত করা। খাবারের জন্য আল্লাহ্‌র প্রশংসা করা এবং মনের ভিতর  ভ্রাতৃত্ব বোধ লালন করা; যে বোধ আমাদের ভাবতে শেখাই বাংলাদেশ একটি অভিন্ন দেহস্বরূপ ,  দেহের এক অংশে আঘাত পেলে যেমন তা সর্বাংশে সঞ্চালিত হয়, তেমনি দেশের একটি  জনগোষ্ঠী  দুর্দশাগ্রস্ত হলে তাও সর্বত্র বিস্তার লাভ করবে।  

Related Posts

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

bn_BDBengali
en_USEnglish bn_BDBengali