অর্থনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য এবং দুফলোর নোবেল অর্জন

  • তহমিনা পারভীন, সহকারী অধ্যাপক
  • অর্থনীতি বিভাগ ,ইডেন কলেজ,ঢাকা

বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক এবং মূল্যবান পুরস্কার নোবেল প্রদান শুরু হয় ১৯০১ সাল  থেকে । প্রথমদিকে  ৫টি বিষয়ের উপর  যথাঃ পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, শান্তি, চিকিৎসা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার   প্রদান করা হতো । ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতি বিষয়ের উপর নোবেল পুরস্কার চালু হয় I১৯০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নোবেল বিজয়ী ৯২৩ জনের মধ্যে মাত্র ৫৩ জ্ন মহিলা এই সম্মান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।প্রথম মহিলা হিসেবে মাদাম কুরি  ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল জয় করেন ৷ দ্বিতীয় নারী হিসেবেএবং শান্তিতেপ্রথম নারী হিসেবে নোবেল জয় করেন বার্থা ভন সাটনার ১৯০৫ সালে I তিনি ১৮৭৬ সালে আলফ্রেড নোবেলের সেক্রেটারি হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন  এবং শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রচলনের জন্য তিনি আলফ্রেড নোবেল কে উৎসাহিত করেছিলেন I

নারী নোবেল বিজয়ী  ৫৩ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন  নারী অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যা কিনা অন্যান্য বিষয়ের থেকে অনেক পিছিয়ে । আমরা এটি সহজেই নিচের টেবিল থেকে অনুধাবন করতে পারব ৷ 

টেবিল থেকে আমরা দেখি সবচেয়ে বেশী নারী  নোবেল পেয়েছে শান্তিতে  এবং অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছে র্সবচেয়ে কম সংখ্যক নারী । বিভিন্ন বিষয়ে নারীদের নোবেল বিজয়ের চিত্র নিচের পাই চার্টের মাধ্যমে আরও সুস্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।

নারীদের নোবেল বিজয়

অন্যদিকে ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৮৪ জন ব্যক্তি অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছেন তার মধ্যে মাত্র ২ জন নারী । ফলে অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে নারী পুরুষের অনুপাত ১ঃ ৪২ ৷  অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে একজন নারী অর্থনীতিবিদের নাম শোনার জন্য নারী সমাজকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৪০ টি বছর – ১৯৬৯ থেকে  ২০০৯ ।২০০৯ সালে অর্থনীতিতে প্রথম নারী হিসেবে এলিনোর অস্থ্রোমের নোবেল অর্জনের মধ্য দিয়ে নারীরা অর্থনীতিতে তাদের কাজের প্রতি আস্থা ফিরে পেয়েছে;  এর সাথে নারী সমাজ আর একটু আশার আলো দেখেছে  এবছর দুফ্লোর নোবেল বিজয়ের মাধ্যমে ৷ তবে এদের মধ্যে কেউই এককভাবে এই সম্মান অর্জন করতে পারেনি ৷অর্থনীতিতে যে দুজন মহীয়ষী নারী নোবেল জিতেছেন তারা হলেনঃ

অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ী দুই মহীয়ষী নারী

তাহলে আমরা দেখতে পাচ্ছি অর্থনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট । ৷বৈষম্য কোন সমাজের জন্য কাম্য নয় Iআর যেখানে অর্থনীতি সমাজ পরিবর্তনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে সেখানে এই বৈষম্য থাকাটা কোনো ভাবেই সমাজের জন্য সুফল  বয়ে আনতে পারেনা দিন  দিন এই বৈষম্য বেড়েই চলেছে Iতবে আগের চেয়ে বর্তমানে  পুরুষ  শাসিত বিষয় অর্থনীতিতে নারীদের অধ্যয়ন ধীর গতিতে এগিয়ে চলেছে।  এক্ষেত্রে এ বছর ফ্রান্সের বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক আমেরিকান অর্থনীতিবিদ এসতার দুফলোর অর্থনীতিতে নোবেল  বিজয় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে ৷ তার এ বিজয় নারী সমাজকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়ে অর্থনীতি বিষয়ের প্রতি  আরো আগ্রহী করে তুলবে I

লিঙ্গবৈষম্যের পেছনে মেয়েদের ব্যক্তিগত,  পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণ জড়িত ।আমাদের  বেশিরভাগ মেয়েরা  বিশেষ করে বাংলাদেশের মেয়েরা ক্যারিয়ার গঠনের চেয়ে সার্টিফিকেটকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করে থাকে । তারা কোন স্বপ্নকে লালন করে না ৷ তাদের মধ্যে উচ্চ আকাঙ্ক্ষা  নাই । তারা অর্থনীতিকে ভালোবেসে পড়ে না ।  তাছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনার্সে ভর্তির ২/৩  বছরের মধ্যে বেশিরভাগ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায় । বিয়ের পর পরিবার সামলিয়ে  অর্থনীতির মত একটা বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে হিমশিম খেতে খেতে কোন রকম একটা দায়সারা ডিগ্রী নিয়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানে ৷গবেষণা বা উচ্চ শিক্ষা কোনোটিই তাদেরকে আর আকর্ষণ করতে পারে না ।

তবে আশার কথা হল – যে সকল নারীরা অর্থনীতিতে গবেষণা কাজে নিয়োজিত তাদের গবেষণার মান তাদের পুরুষ সহকর্মীর চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো (উৎস:The Economist,২০১৮ )।  কিন্তু তাদের কাজের স্বীকৃতি কম ৷ কারণ বেশিরভাগ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ পুরুষ হওয়ায় তারা পুরুষদের অর্থনৈতিক তত্ত্ব বা অর্থনৈতিক নীতিকে বেশি প্রাধান্য দেয় আবার যৌথভাবে প্রকাশিত গবেষণায় নারীদের চেয়ে পুরুষদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশি I ফলে অর্থনীতিতে পড়াশোনা থেকে শুরু করে ক্যারিয়ার গঠন সর্বক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের ভারসাম্যহীনতা পরিলক্ষিতহয় যা কোনোভাবেই একটা সমাজের জন্য কাম্য  নয় ৷

নারী-পুরুষের এই ভারসাম্যহীনতা দূর করে অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার  জন্য এগিয়ে আসতে হবে প্রথমে নারীকে।তাকে সহযোগিতা  করতে  হবে তার পরিবারকে । কাজের পরিবেশ সৃষ্টি কোরতে হবে সরকারকে। সর্বোপরি ফ্রান্সের ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এস্তার ডুফলোর  মত এরকম  অর্জন নারীসমাজকে উৎসাহ ও প্রেরণা জুগিয়ে   সামনে এগিয়ে যাওয়ার  অনুপ্রেরণা ও সাহস জুগাবে  Iঅর্থনীতি বিষয়ের  প্রতি নারীদেরকে আরো আগ্রহী করে তুলবে । অর্থনীতিতে দূর হবে লিঙ্গ বৈষম্য I

Related Posts

9 thoughts on “অর্থনীতিতে লিঙ্গ বৈষম্য এবং দুফলোর নোবেল অর্জন

  1. Hey there I am so thrilled I found your web site, I really found you by accident, while I was browsing on Askjeeve for something else, Anyways I am here now and
    would just like to say kudos for a marvelous post and a all round
    interesting blog (I also love the theme/design), I don’t
    have time to read through it all at the minute but I have bookmarked it and also added your RSS feeds, so when I have time I will be back to read much more,
    Please do keep up the excellent jo.

  2. Awesome site you have here but I was curious if you knew of any discussion boards that
    cover the same topics discussed in this article? I’d really love to be a part of online community where
    I can get feed-back from other knowledgeable people that share the same interest.

    If you have any recommendations, please let me know.
    Kudos!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

bn_BDBengali
en_USEnglish bn_BDBengali